Tuesday, August 15, 2006

A journey by car

12 তারিখ রাতে উল্লাস এর sms "come 2 my home asap 2moro morning. i hav scheduled 2 go Dhaka 2moro morning. come b4 9am. i will wait. address:....." মর্মার্থ উদ্ধার করতে পারলাম না। পরদিন সকালে আনু কে দেখাতে বললো "উল্লুক মনে হয় ফাইজ্লামি করছে।" উল্লাস এর পরিহাস প্রবনতার উপর আস্থা রেখে আমার বাসা থেকে সকাল সাতটায় রওনা হলাম - আমি, আনোয়ার, জেনান, সিফাত।

সমস্যা দেখা দিলো মনন কে রাস্তা থেকে pick up করার পর...কে কোথায় বসবে। তুমুল বিতর্কের পর ঠিক হলো, সবচেয়ে মোটা লোকটি বসবে সামনে। আমি "সবচেয়ে মোটা" হবার দাবি জানালাম, কিন্তু দেখা গেলো সিফাত এর ওজন আমার থেকেও আট কেজি বেশি। কি আর করা; পেছনের সিটে গাদাগাদি করে বাকি চারজন বসলাম...চাপের চোটে দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। খালি মাথা ছাড়া আর কিছুই নড়াতে পারছি না।

আমাদের ড্রাইভার মুজিব ভাই নিপাট ভদ্রলোক। তার ভালোমানুষির সুযোগ নিয়ে বাস, ট্রাক, এমনকি রিক্সাও ওভারটেক করে যেতে লাগলো। দুই ঘন্টার রাস্তা চার ঘন্টায় অতিক্রম করে অবশেষে বেলা এগারোটায় ময়মনসিংহ পৌছলাম।

শহরটি বিশেষত্বহীন, তবে মানুষজনের পরোপকারিতা আমাদের মুগ্ধ করলো। যাকেই ঠিকানা জিঞ্জেস করি, সবারই সরল উত্তর "এই রাস্তা ধরে সোজা চলে যান"। সোজা রাস্তায় এক ঘন্টা ঘুরপাক খাবার পর উল্লাস এর বাসা খুজে পাওয়া গেলো। বাসায় ঢুকতেই sms এর গূঢ় অর্থ পরিস্কার...আন্টি জানালেন সে আজ সকালে ঢাকায় চলে গেছে।

কি আর করা, ভরপেট খিচুড়ী খেয়ে আর উল্লুক কে যথাসম্ভব অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে আবার পথে নামলাম। দারোয়ান এর কাছে শহরের দর্শনীয় স্থান এর কথা জিঞ্জেস করাতে বললেন....একটি রাজবাড়ি কাম মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ আছে। পথও বাতলে দিলেন "এই রাস্তা ধরে সোজা চলে যান"।

রাজবাড়ি গিয়ে আমরা হতাশ, একটি বিবসনা নারী মুর্তি ছাড়া আর কিছুই নেই। তারই গোটা কয়েক ছবি তুলে রওনা দিলাম বাকৃবি 'র উদ্দেশ্যে।



বাকৃবি'র কাছে এসে নতুন সমস্যা দেখা দিলো...সেখানের স্পীড ব্রেকার গুলো মনে হয় বেশি উচু, গাড়ি আটকে যাচ্ছে। তাই স্পীড ব্রেকার আসতেই পেছনের সবাইকে নেমে পড়তে হলো। প্রায় 15 বার ওঠনামার পর গিয়ে ক্যাম্পাসে পৌছালাম।

এর মধ্যে মনন তার এক বড় ভাই এর প্রাক্তন রুমমেট এর নাম্বার যোগাড় করে ফেলেছে....মুন্না নাম ছেলেটার। সে, তার বন্ধু লাতিফ এবং আমাদের স্কুলের বন্ধু শিশির - এই তিনজন আমাদের নিয়ে বের হলো ঘুরে দেখাতে। বিশাল ক্যাম্পাস, সবকিছুতেই পরিকল্পনার ছাপ। আমাদের ক্যাম্পাস এর সাথে আয়তন এবং সৌন্দর্যের তুলনা করে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।

এর পরের চার ঘন্টা কাটলো ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাভ্রমণ, খাওয়াদাওয়া, এবং মাইল দশেক হাটাহাটি করে। সন্ধ্যা সাতটায় ক্লান্ত হয়ে আবার চেপে বসলাম গাড়িতে, নিসর্গের চেয়ে বেশি তিনজন প্রায় অপরিচিত বন্ধুর আতিথেয়তার স্মৃতি নিয়ে। পরের দিন পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও যারা অকৃপন হাতে আমাদের জন্য হাসিমুখে সময় ব্যয় করেছে।


ঢাকায় ফেরার পথে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি, শুধু গাজিপুরের কাছে এসে টায়ার বার্স্ট হলো। সবাই মিলে দায়ভার চাপালাম সিফাতের উপর। চিরাচরিত যানজট পেরিয়ে বাসায় গেলাম রাত 11টায়। সব আনন্দের কথা ভুলে মাথায় তখন একটাই চিন্তা........"ঘুম"।

1 comment:

Anonymous said...

Wow! Kotthin! Josh likhechish. Khubi bhalo bornona. Gari theke 15 bar otha-nama korar drishshota kolpona kore bimolanondo pelam :-)